নিজস্ব প্রতিবেদন ::: আদালতে দণ্ডিত, ১০ দিন কারাভোগও করেছেন। কিন্তু সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা তো দূরের কথা, তথ্য গোপন করেই এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বশির শরিফ। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে ঘিরে এবার শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রায়হান মিয়া নামে এক ব্যক্তি বশির শরিফের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালে ফরিদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর জি.আর. ৪৮১/২৪ (সাদরপুর সি.আর. ৪৮১/২৪)।
মামলার বিচার শেষে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (এনআই অ্যাক্ট)-এর ১৩৮ ধারায় বশির শরিফকে ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
রায়ের পর গত ১০ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর থেকে থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বশির শরিফ ১০ দিন জেলহাজতে ছিলেন।
কিন্তু সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কারাভোগ করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার বিধান রয়েছে। অথচ বশির শরিফ কারাভোগের তথ্য গোপন রেখে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দেন এবং এখনো নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কি তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা এড়িয়ে যাচ্ছেন, নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব?
এ বিষয়ে বশির শরিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার সাজা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। বরং সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, “অভিযুক্ত কর্মকর্তার গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ. কে. এম. সাইফুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে একজন আদালতে দণ্ডিত ও কারাভোগকারী কর্মকর্তা কীভাবে এখনো সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে গোয়াইনঘাটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ ঘটনায় কারও গাফিলতি বা দায় থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে আরও নেতিবাচক বার্তা যাবে।
Leave a Reply